বহির্বিশ্বের ভাঙাগড়ার কাহিনী নিয়ে রচিত হয় বিগত কালের ইতিহাস। আলো আর অন্ধকারের পৃষ্ঠপটে উচ্চকিত সেই ধ্বনিমুখর ইতিহাস পরবর্তীকালের জন্য সঞ্চিত রাখে প্রেরণা, উন্মাদনা, রোমাঞ্চ। কিন্তু স্তিমিত অন্তঃপুরের অন্তরালেও কি চলে না ভাঙাগড়ার কাজ? যেখান থেকে রং বদল হয় সমাজের, যুগের, সমাজ মানুষের মানসিকতার। চোখ ফেললে দেখা যায় সেখানেও অনেক সঞ্চয়। তবু রচিত ইতিহাসগুলি চিরদিনই এই অন্তঃপুরের ভাঙাগড়ার প্রতি উদাসীন। অন্তঃপুর চিরদিনই অবহেলিত। বাংলাদেশের সেই অবজ্ঞাত অন্তঃপুরের নিভৃতে প্রথম যাঁরা বহন করে এনেছেন প্রতিশ্রুতির স্বাক্ষর, এ গ্রন্থ সেই অনামী মেয়েদের একজনের কাহিনী।
তুচ্ছ দৈনন্দিনের পৃষ্ঠপটে আঁকা এই ছবি যদি বহন করে রাখতে পেরে থাকে বিগত কালের সামান্যতম একটি টুকরোকে, সেইটুকুই হবে আমার শ্রমের সার্থকতা।
লেখিকা বাংলাসাহিত্যে আশাপূর্ণা দেবীর অভ্যুদয় একটি বিশিষ্ট ঘটনা। তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ও ক্ষুরধার লেখনী বাঙালীর সংসারজীবনের উপরকার বর্ণাঢ্য মোহজাল ছিন্নবিচ্ছিন্ন ক'রে তার যে সত্যকার রূপ দেখিয়েছেন, তা ইতিপূর্বে কোন লেখক বা লেখিকা দেখতে কি দেখাতে সাহস করেন নি। কোনো প্রচলিত ধারণা ও বিশ্বাসকেই লেখিকা যাচাই না ক'রে গ্রহণ করতে রাজী হন নি, আর তার ফলে বিশ্বাসমুগ্ধ বহু পাঠককেই সুকঠিন আঘাত পেতে হয়েছে তাঁর লেখা পড়ে। তাঁর সত্যদৃষ্টির নিকষে টেকে নি প্রায় কোনটাই-অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপাত- মূল্যবান অলঙ্কারের ভিতরকার কেমিক্যাল সোনা ও ঝুটো পাথরের যথার্থ চেহারাটা বেরিয়ে পড়েছে।... কিন্তু শুধুই কি জীবনের অসত্য ও অমলিন দিকটাই দেখেছেন লেখিকা? না, তা দেখেন নি। তাহলে আজ এই গ্রন্থের নায়িকা সত্যবতীর সৃষ্টি বা কল্পনা সম্ভব হত না। বাংলার সমাজ ও সংসারের অন্তঃপুরে গত শতবর্ষে যে অভাবনীয় ও অকল্পনীয় পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে-বহু অসমসাহসিক বীরাঙ্গনার বুকের রক্তেই তা ঘটতে পেরেছে; তারা নিজেরা জ্বলে আলোকিত ক'রে দিয়ে গেছে জীবনের প্রশস্ত রাজপথ, আত্মবলির মূল্যে খুলে দিয়ে গেছে মহৎ সম্ভাবনার সিংহদ্বার। লেখিকার আবির্ভাব যেমন বিস্ময়কর তেমনি বাংলা কথাসাহিত্য ক্ষেত্রে 'প্রথম প্রতিশ্রুতি'র আবির্ভাবও একটি স্মরণীয় ঘটনা। বাঙালী পাঠক-পাঠিকা তথা সমগ্র বাংলা-ভাষাভাষী জনতা চিরদিন এই উপন্যাসখানির জন্য লেখিকার কাছে কৃতজ্ঞ ও ঋণী বোধ করবেন সন্দেহ নেই। বহু গুণী ও জ্ঞানী পাঠকের মতে-তিনি যদি মাত্র এই একটি গ্রন্থই রচনা করতেন, তাহ'লেও বঙ্গবাণীর সভায় তাঁর আসন স্থায়ী ও বরণীয় হয়ে থাকত।
২৪শে পৌষ ১৩১৫, ইং ৮ই জানুয়ারী ১৯০৯ শুক্রবার উত্তর কলকাতার পটলডাঙ্গার মামার বাড়িতে আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম। সমাজের কঠিন নিয়মে মাতৃভাষায় বিদ্যাশিক্ষার বা পাঠাভ্যাসের সুযোগ পান নি। তা সত্ত্বেও একদিকে তাঁর পড়ার বাসনা ছিল অদম্য এবং অন্যদিকে মাতৃ সান্নিধ্যে জেগেছিল সাহিত্য ও জীবন সম্বন্ধে এক অনুসন্ধিৎসা। প্রথম লেখা শুরু কবিতা দিয়ে এবং ১৩২৯ সালে 'শিশুসাথী' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরে আর তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় নি। প্রথম সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলেন একটি কবিতা প্রতিযোগিতায় মাত্র পনেরো বছর বয়সে। এই সময় তাঁর জীবনের দিক পরিবর্তন হল। কৃষ্ণনগর-নিবাসী কালিদাস গুপ্তর সঙ্গে তিনি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। প্রথম ছোটদের বই-এর প্রকাশ ১৩৪৫ সালে (ছোট ঠাকুর্দার কাশীযাত্রা) এবং বড়দের জন্য লেখা উপন্যাস (প্রেম ও প্রয়োজন) প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৫১ সালে। এরপর আর থেমে থাকা নয়, শেষ নিঃশ্বাস পড়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর কলম থেমে থাকে নি। বাংলা ২৭শে আষাঢ় ১৪০২, ইং ১৩ই জুলাই ১৯৯৫ তিনি লোকান্তরিতা হন। ২৪শে পৌষ ১৩১৫, ইং ৮ই জানুয়ারী ১৯০৯ শুক্রবার উত্তর কলকাতার পটলডাঙ্গার মামার বাড়িতে আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম। সমাজের কঠিন নিয়মে মাতৃভাষায় বিদ্যাশিক্ষার বা পাঠাভ্যাসের সুযোগ পান নি। তা সত্ত্বেও একদিকে তাঁর পড়ার বাসনা ছিল অদম্য এবং অন্যদিকে মাতৃ সান্নিধ্যে জেগেছিল সাহিত্য ও জীবন সম্বন্ধে এক অনুসন্ধিৎসা। প্রথম লেখা শুরু কবিতা দিয়ে এবং ১৩২৯ সালে 'শিশুসাথী' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরে আর তাঁকে অপেক্ষা করতে হয় নি। প্রথম সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছিলেন একটি কবিতা প্রতিযোগিতায় মাত্র পনেরো বছর বয়সে। এই সময় তাঁর জীবনের দিক পরিবর্তন হল। কৃষ্ণনগর-নিবাসী কালিদাস গুপ্তর সঙ্গে তিনি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। প্রথম ছোটদের বই-এর প্রকাশ ১৩৪৫ সালে (ছোট ঠাকুর্দার কাশীযাত্রা) এবং বড়দের জন্য লেখা উপন্যাস (প্রেম ও প্রয়োজন) প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৫১ সালে। এরপর আর থেমে থাকা নয়, শেষ নিঃশ্বাস পড়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর কলম থেমে থাকে নি। বাংলা ২৭শে আষাঢ় ১৪০২, ইং ১৩ই জুলাই ১৯৯৫ তিনি লোকান্তরিতা হন।